1. admin@dailyaparadhershironam.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লা জেলা পুলিশের সাফল্য— সারাদেশে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, মাদকসহ গ্রেপ্তার ৬ অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন, অন্যথায় ৬ দফা আন্দোলন ১ দফায় পরিণত হবে কুমিল্লায় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা সাজ্জাদ গ্রেফতার মাসোহারা বাণিজ্যে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ, অনুসন্ধানে উঠে এলো বিস্ফোরক তথ্য বুড়িচংয়ে সালেহ আহম্মেদের হস্তক্ষেপে মাদকসহ আটক ব্যক্তি ছাড়া, ভিন্ন ব্যক্তিকে পলাতক দেখিয়ে আসামি ক্ষেতলালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর সার্কেলের বিরুদ্ধে বিস্তার অভিযোগ: সাংবাদিককে ‘ম্যানেজ’ করতে এসআই সুমনের ঘুষের খাম! কুমিল্লা সদর দক্ষিণে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যৌথবাহিনীর টহল ইন্সপেক্টর শূন্য কুমিল্লার চকবাজার ফাঁড়ি: সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে চাঁদাবাজির রমরমা বাণিজ্য!

গানম্যানকে আটক: ৯০ হাজার ইয়াবা গায়েব—বাকলিয়ার ঘটনায় আদালতের কাঠগড়ায় সিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৮ বার পঠিত

চট্টগ্রামে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–২-এর এক বিচারকের গানম্যানকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক করার পর রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়া এবং উদ্ধারকৃত মাদক গায়েবের অভিযোগে তোলপাড় চলছে পুলিশ অঙ্গনে। অভিযোগের তীর সরাসরি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বাকলিয়া থানা পুলিশের দিকে। ঘটনার পর পুলিশের নীরবতা, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং প্রামাণ্য তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি রীতিমতো বিস্ফোরক রূপ নিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার রাত দেড়টা থেকে ৩টার মধ্যে কর্ণফুলী ব্রিজের বাকলিয়া থানা চেকপোস্টে দেশ ট্রাভেলসের ঢাকাগামী একটি বাস তল্লাশি করা হয়। ওই বাসে যাত্রী হিসেবে ছিলেন কনস্টেবল ইমতিয়াজ—যিনি কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–২-এর বিচারকের গানম্যান হিসেবে কর্মরত।

বাস তল্লাশির সময় নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেওয়ার পর তাকে আলাদা করে পুলিশ বক্সে নেওয়া হয়। একই সময় বাসের লাগেজ বক্স থেকে তার দুটি তালাবদ্ধ ব্যাগ জব্দ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি—এই ব্যাগেই ছিল প্রায় ৯০ হাজার পিস ইয়াবা।

প্রশ্ন হলো, এত বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের পরও কেন কোনো মামলা হয়নি? কেনই বা একজন আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হলো?

টিকিট, এনআইডি ও ছুটির রহস্য:
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে অস্বাভাবিক তথ্য। কনস্টেবল ইমতিয়াজ কক্সবাজারের কলাতলী কাউন্টার থেকে রাত ১০টা ১৫ মিনিটের বাসে ওঠেন। তবে টিকিটে তার যাত্রার শুরুর স্থান দেখানো হয় চকরিয়া। শুধু তাই নয়, টিকিট রেজিস্ট্রেশনে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি ঢাকার ধামরাই এলাকার বাহারউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এই যাত্রার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট বিচারক বা কক্সবাজার জেলা পুলিশ থেকে কোনো ছুটিই নেননি। তাহলে প্রশ্ন উঠছে,
দায়িত্বে থাকা একজন বিচারকের গানম্যান কেন ছুটি ছাড়াই একাধিকবার ঢাকা–কক্সবাজার যাতায়াত করছিলেন?

বাসের সুপারভাইজার মিজানুর রহমান জানান, ইমতিয়াজকে নামিয়ে নেওয়ার পর প্রায় ৩০ মিনিট বাসটি থামিয়ে রাখা হয়। পরে তাকে রেখে বাসটিকে ঢাকার পথে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাসের এক যাত্রী জানান, “পুলিশ এসে আমার সামনের সিটের যাত্রীকে নামিয়ে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ছাড়াই গাড়ি চলে যায়।”

অথচ ঘটনার পর বাকলিয়া থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করছেন, সেদিন এমন কোনো তল্লাশি বা ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেনি। একইভাবে কনস্টেবল ইমতিয়াজও প্রকাশ্যে নিজের পরিচয় ও ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করছেন।

তবে পুলিশের ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, পুলিশ বক্সে নেওয়ার পর সেখানে সিভিল পোশাকে ওসি (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, সেকেন্ড অফিসার আল আমিন, একজন এসআই, তিনজন এএসআই, এক পুরুষ ও দুই নারী কনস্টেবল এবং কয়েকজন সোর্স উপস্থিত ছিলেন। একটি জব্দ তালিকা তৈরি করা হয় এবং ইমতিয়াজের জবানবন্দি নিয়ে তাতে স্বাক্ষরও করানো হয়।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ—উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো পরে আর পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক ঘণ্টা পর “বিষয়টি কাউকে না জানানোর শর্তে” কনস্টেবল ইমতিয়াজকে কুমিল্লাগামী বাসে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তিনি কুমিল্লায় নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

এই ঘটনায় উঠে আসছে ভয়াবহ প্রশ্ন—
৯০ হাজার পিস ইয়াবা যদি উদ্ধারই না হয়ে থাকে, তবে জব্দ তালিকা কেন? আর যদি উদ্ধার হয়ে থাকে, তবে সেই আলামত এখন কোথায়?

কনস্টেবল ইমতিয়াজের মোবাইল নম্বরের কল ডিটেইলস ও লোকেশন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত কয়েক মাসে তিনি একাধিকবার কক্সবাজার–ঢাকা যাতায়াত করেছেন—১৩ অক্টোবর, ১৫ নভেম্বর, ২২ নভেম্বর এবং সর্বশেষ ৮ ডিসেম্বর। প্রতিবারই দুই–তিন দিনের মধ্যে ফিরে এসেছেন। এই যাতায়াতের পেছনে কোনো সরকারি আদেশ বা দায়িত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক পাচারকারীকে সহায়তা এবং আলামত গায়েবের মতো ভয়াবহ অভিযোগ এখন নগরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদ স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেন।

আদালত আগামী ১২ জানুয়ারির মধ্যে সিএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ)-কে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন একটাই— এই তদন্ত কি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সত্যিই বেরিয়ে আসবে ইয়াবা গায়েবের নেপথ্যের মুখগুলো?

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর