
কুমিল্লার চান্দিনায় সৌদি আরবে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে পাচার এবং তার পরিবারের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোছাঃ মোহছেনা বেগম (৫৪) কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১০ নম্বর আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ গ্রামের আমান উল্লাহ (৩২) নামের এক আদম ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে অবস্থানরত আমান উল্লাহ প্রবাসে উচ্চ বেতনের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বাদীর একমাত্র পুত্র ইমামুল হক রাসেলকে সৌদি আরবে একটি কফি হাউজে মাসিক ৬০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি দেওয়ার কথা বলে।
ভিসা, মেডিকেল, পাসপোর্ট ও অন্যান্য খরচের অজুহাতে বাদী ও তার ছেলের কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৬ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়। মামলায় বলা হয়, স্বজন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এ অর্থ জোগাড় করা হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাসেলকে সৌদি আরবে নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুত চাকরি দেওয়া হয়নি। বরং তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে মাদক ব্যবসায় জড়িত হতে চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হলে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানো ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস ধরে কোনো কাজ না দিয়ে তাকে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়। এক পর্যায়ে রাসেলের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে অন্য এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহার করে রাসেল তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরো ঘটনা জানালে বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ পায়।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ দেশে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ ওঠে। বাদী ক্ষতিপূরণ ও ছেলের সন্ধান চাইতে গেলে আসামি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন এবং রাসেলের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।
ভুক্তভোগী রাসেলের মা ও বোন বলেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত মানবপাচার ও প্রতারণার ঘটনা। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন না বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমান উল্লাহর পরিবারের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরাও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তবে অভিযুক্ত আমান উল্লাহর শশুর জানান, আমরা ঘটনাটি শুনে তাদের বাসায় এসেছি, বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি।