
কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় প্রকাশ্যে বড় অংকের জুয়া খেলার আসর বসার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার বাহেরখোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দিন ও রাতব্যাপী এই অবৈধ জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
দৈনিক অপরাধের শিরোনামের অনুসন্ধানে জানা যায়, পেশাদার জুয়ারু মোঃ নসু মিয়া (৫৫) ও মোঃ অলেক মিয়া (৫৭) যৌথভাবে এই জুয়ার আসর পরিচালনা করছেন। জুয়ারু নসু হোমনার বাহেরখোলা (হোমনা বাসস্ট্যান্ড) এলাকার মৃত খুরশিদ মিয়ার ছেলে এবং জুয়ারু অলেক হোমনা দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত আনোয়ারের ছেলে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাহেরখোলা এলাকায় প্রতিদিন প্রকাশ্যে দিবারাত্রি জুয়ার আসর বসে। এতে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকা এবং মাসে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও নিয়মিতভাবে জুয়ারুদের যাতায়াত লক্ষ্য করা যায়।
শুধু জুয়া নয়, এই আসরের সঙ্গে নারী আনা ও মাদক সেবনের ঘটনাও জড়িয়ে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জুয়ার আসরে নিয়মিত মাদক সেবন চলে, যা এলাকার পরিবেশকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। নারী ও মাদক সংশ্লিষ্ট এসব কর্মকাণ্ডে সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জুয়ার আসরের আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত কার্যত নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় গেলে বাধা দেওয়া হয়। অনেক সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। এতে করে এলাকাবাসী চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
জুয়ার কারণে এলাকার যুবসমাজ বিপথে যাচ্ছে, পারিবারিক কলহ বাড়ছে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। অনেকেই ভয়ের কারণে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও জানান।
আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, মাসে আনুমানিক দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে থানা পুলিশের একটি অংশকে ম্যানেজ করেই এই অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, প্রকাশ্যে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত জুয়ার আসর বন্ধ, নারী ও মাদক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।